হা: মাওলানা বদরুদ্দীন (রহ.) এর জীবন ও কর্ম

আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা বদরুদ্দীন (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

নাম:

বদরুদ্দীন

জন্ম:

তিনি ১৯৫০ ঈ সনে ২৫ই এপ্রিল মোতাবেক ৭ই রজব ১৩৬৯ হিজরীতে যশোর জেলার বাঘারপাড়া থানাধীন আগড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।

পিতা:

পিতা এলাকার কয়েকজন মৌলভীর মধ্যে অন্যতম ছিলেন।

মাতা:

———

শিক্ষাদীক্ষা:

প্রাথমি শিক্ষা: শৈশবে তিনি পিতার কাছে হাতেখড়ি নেন। এরপর নিয়মতান্ত্রিক স্কুলের পাঠ নিতে থাকেন। এলাকার মানুষের মাঝে তখন বিদয়াতের সয়লাব। মৌলভী সাহেবের সন্তান হওয়ার কারণে আগে থেকেই সঠিক দ্বীনের প্রভাব তাঁর ছিলো।

হিফজুল কুরআন: তাছাড়া তার পিতার অভিপ্রায়ও ছিলো ছেলেকে হাফেযে কুরআন বানানো। সেই সুবাদে বাড়ির কাছেই থাকা হেফজখানায় ভর্তি হন। সেখানে হাফেয আলতাফ সাহেব ও নাভারণের এক হাফেয সাহেবের কাছে হিফজ সমাপ্ত করেন। এরপর তিনি যশোরের হাফেয মুফতী আলী হোসেন সাহেবের কাছে হিফজুল কোরআন শোনানো শেষ করেন। সময়টা ছিলো পাকিস্তান আমলের শেষের দিকে।
হেফজ শেষে যশোর রেল স্টেশনে মুফতী আব্দুল্লাহ সাহেব(মাগুরাবী) মুফতী আলী আকবর রহ. মুফতী আবুল হাসান রহ. এর কাছে ইবতেদায়ী সবক গ্রহণ করছিলেন। ইতিমধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। দুর্ভাগ্যক্রমে এতে তিনি ফেঁসে যান এবং প্রায় ১৭ মাস কারাগারে আবদ্ধ থাকেন। আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরাবানীতে তাঁর কারামুক্তি হয়। হাজতে থাকা অবস্থায় প্রতিটা মুহূর্ত তিনি আল্লাহ তায়ালাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন। প্রতি ৩ দিনে এক খতম কোরআন খতম করেছেন। অনেক কয়েদীকে হেফজ পড়িয়েছেন। (আল্লাহ তাঁকে উত্তম জাযা দিন)

দাওরাতুল হাদীস: স্বাধীনের পর কারামুক্ত হয়ে ১৯৭৬ ই. পর্যন্ত পূর্ণ ৪ বৎসর মাগুরা শিমুলিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। এরপর পড়াশোনার প্রতি একটা আলাদা টান অনুভব করেন। ছাত্র জামানায় এভাবে শিক্ষকতা করাটা তিনি ভালো মনে করেন নি। তাই মুরব্বীদের পরামর্শ নিয়ে ১৯৭৭ ই. তে চলে গেলেন মেখল মাদরাসায়। সেখানে ১৯৮২ই. পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শরহে বেকায়া পর্যন্ত নেসাবভুক্ত জামাতগুলোর অধ্যায়ন সমাপ্ত করেন। এরপর ১৯৮৩ ই তে চলে যান ভাতুয়ায়। এ সময়ে তিনি বিবাহ সম্পন্ন করেন। সেখানে দুই বৎসর পড়ার পর হাটহাজারীতে ১৯৮৫ ই. দাওরা হাদীস সমাপ্ত করেন।
এ সময়ে তাঁর উস্তাদদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন- মাওলানা আহমদুল হক সাহেব, মাওলানা নুর আহমদ সাহেব, মাওলানা আহমদ শফি হাফি. প্রমুখ
এ সময়ে তাঁর সহপাঠী হিসেবে ছিলেন- মরহুম আ.আজীজ সাহেব, কুষ্টিয়া,,মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব, মাওলানা রুহুল আমীন, মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ আলী, দড়াটানা মাদরাসা যশোর,, মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা রফিকুল ইসলাম যশোরী প্রমুখ

বিবাহ:

———

কর্মজীবন:

ফারেগের পর আপন শ্বশুর আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দীক রহ. এর পরামর্শক্রমে শ্বশুরালয় মাগুরার শাহজিরকান্দী গ্রামে হেফজখানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দু’বৎসর সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাঁর মুশফিক উস্তাদের পরামর্শে যশোর দড়াটানা মাদরাসায় খেদমত করেন এবং ইন্তেকাল পর্যন্ত সেখানেই ছাত্রদের কোরআনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে গেছেন।
এছাড়াও তিনি যশোরের কয়েকটি মসজিদের ইমামতি ও খতীবের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সব যায়গাতেই তিনি যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত মসজিদগুলোর তালিকা- দাদাভাই মিল মসজিদ, যশোর কোতয়ালী মসজিদ, আরবপুর কেন্দ্রীয় মসজিদ, বায়তুল মামুন জামে মসজিদ যশোর, বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদ।

আখলাক:

——–

ইবাদত ও তাকওয়া:

——–

মুআমালা ও মুআশারা:

হাফেজ মাওলানা বদরুদ্দীন সাহেবের আমল-আখলাক মুয়ামালাত এবং মুয়াশারাতের কথা বলে শেষ করা যাবে না। হাদীস শরীফে এসেছে, “জান্নাতী লোকদের জীবন যাপন সাদাসিদা হয়, সাদামাটা হয়”। এ হাদীসের বাস্তব নমুনা ছিলেন তিনি। জীবনে কোনদিন সম্পদ ও অট্টলিকার আগ্রহী ছিলেন না। তিনি সব সময় মসজিদ মাদ্রাসার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। মসজিদ মাদ্রাসার উন্নতির ফিকিরেই ব্যস্ত ছিলেন। তিনি বিনয় এবং নম্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি সীমাহীন সহনশীল এবং ধৈর্যশীল ছিলেন। কোনদিন নিজের অসুবিধার কথা কারোর কাছে মুখ খুলে বলতেন না। পরোপকারী ছিলেন।

আমানতদারীতা:

——–

তিনি ছিলেন আদর্শ শিক্ষাগুরু:

তিনি অগণিত হাফেজ আলেমের ওস্তাদ ছিলেন। সালেহীন বুযুর্গানে দ্বীনের মত তার আমল-আখলাক ছিল। নবীর জীবনের উত্তম আদর্শ অনুসরণ করে চলতেন। ছেলেমেয়েদেরকে তিনি হাফেজ আলেম বানিয়েছেন। নিজের সব ছেলেমেয়েদেরকে কওমি মাদ্রাসায় পড়ানোর এটাই লক্ষণ যে, তিনি একজন আখেরাতমুখী আল্লাহ ওয়ালা মানুষ ছিলেন।

উলামা, তুলবা, আত্মীয় স্বজন এবং জন সাধারণের দৃষ্টিতে :

——–

সন্তান সন্ততি:

৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে।
কন্যাদের সকলের বিবাহ হয়ে গেছে এবং চার ছেলের মাঝে বড় ও মেজো ছেলের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। বাকী দুইজনের একজন ইফতা শেষ করে খেদমতে আছে এবং অপরজন অধ্যায়রত আছে।

ছেলেদের নামের তালিকা 

বড় ছেলে: মুফতি আফফান কাসেম
মেজো ছেলে: হাফেজ মাওলানা মুফতি আসেম বিল্লাহ
সেজো ছেলে: হাফেজ মাওলানা মুফতি মুসুম বিল্লাহ সালিম
ছোট ছেলে: হাফেজ মাহমুদুল হাসান

মেয়ের জামাতাগনের নামের তালিকা:
বড় জামাতা: মুফতি মুখলেসুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা মুহতামীম:
মেজো জামাতা:———-
সেজো জামাতাঃ হাফেজ মাওলানা মুফতি নোমান কারীম
৪র্থ জামাতা: হাফেজ ইসমাইল

ভাই বোন:

 তাঁরা ——–

নিম্নে ভাইদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো-

—————-

ভায়রাগণ:

এক:
মরহুম মাষ্টার গাউসুর রহমান

দুই:
মরহুম মোঃ রিজাউল কবীর

তিন:
আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুল আজীজ (রহ.) [যিন হজ্র ব্রত পালনরত অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন এবং তাঁর কবর মক্কার হাজী সাহেবগণের কবরস্থানে দাফন করা হয়]

আসাতিযাগণ:

 মুফতি আব্দুল্লাহ মাগুরার হুজুর দা. বা, মুফতি আলী আকর রহ., মাওলানা রজব আলী রহ., মাওলানা আবুল হাসান রহ., মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ, মুফতি আহমাদুল হক রহ. মাওলানা শাহ আহমাদ শফী দা. বা. প্রমুখ যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ আলেমগণ।

ইসলাহী মুরব্বী:

——-

শাগরেদ:

———

বংশে উলামায়ে কেরাম:

——–

বর্তমান ঠিকানা:
পারিবারিক সংগঠন:

আস-সিদ্দীক ফাউন্ডেশন
শাহজিরকান্দি, মুসাপুর বাজার, মাগুরা।
মোবাইল : 01712-544865, 01712-572359, 01967-119283
ওয়েসবাইট: www.assiddik.com
ইমেইল : info@assiddik.com, assiddik.com@gmail.com

সাংগঠিনিক পদ: তিনি  আস-সিদ্দিক ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা ছিলেন

ওফাত:

১৩ জিলকদ ১৪৪১ হিজরী মোতাবেক ৫ ই জুলাই ২০২০ রোজ রবিবার বিকাল ৪টা ৪৫ মি: সালাতুল হাজাত আদায় করে বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ এই দুআ পাঠ করতঃ হাসপাতলে যাওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিঊন। আল্লাহ তা’আলা তাকে নিজ রহমতে মাফ করুন এবং রহমত বর্ষণ করুন।